শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪৮ অপরাহ্ন

একুশের বাণী :
দৈনিক একুশের বাণী একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা , আমরা দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ সুনামের সহিত দেশের প্রত্যেকটি প্রান্ত থেকে মুহুর্তের খবর এনে তুলে ধরি আপনাদের সামনে , বর্তমানে আমরা ২০১৮ থেকে অনলাইন বার্সনেও আছি , আগামী ১০ দিনের মধ্যে ই-পেপারেও চলে আসবো । আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করুন , সত্য-তা যত গভিরেই থাকুক , জাতির সামনে তুলে আনবো আমরা । আমাদের ইমেইল করতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ- dailyekusherbani2013@gmail.com/dailyekusherbani2018@gmail.com ... মোবাইল বার্তা বিভাগঃ- 01635757744 গভ,রেজি নং- ডিএ-২০৩৫। বর্ষ-20
শিরোনাম :
ঝিনাইদহে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯শিক্ষকের খোঁজ নেই গাজীপুরে আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম এর পথসভা অনুষ্ঠিত অবৈধভাবে শত বছরের গাছ কাঁটার নিরাপদ জায়গা এখন ঝিনাইদহের হরিশংকরপুর অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশেই ‘ইভ্যালি’ খুলেছিলেন রাসেল! ফিনল্যান্ড পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মহানগরের বোর্ড বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকলীগের পথসভায় কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তিন বছর পূর্তি উদযাপন তৃতীয় দিনের ‘রুদ্ধদ্বার’ বৈঠকে বসেছে বিএনপি ভাঙ্গায় খামারীদের মাঝে মিল্ক ক্রিম সেপারেটর মেশিন সামগ্রী বিতরণ গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৫১ জনের মৃত্যু,নতুন শনাক্ত ১৮৬২ জনের। শিল্পকলা একাডেমী ইউএসএ’র “প্রবাস প্রত্যয়ে বঙ্গবন্ধু” শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কাল দীর্ঘ যানজটে যশোরের বেনাপোল বন্দরবাসী ইসলামপুরে মহিলা মাদরাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ ঘটনায় ৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ ভাঙ্গায় পৌর নির্বাচনে প্রার্থীদের সাথে প্রশাসনের মতবিনিময় নবীনগর আইন শৃঙ্খলা সভায় ১১৫ টি দূর্গাপূজা মন্ডপের ঘোষণা মাওনা চৌরাস্তা মানবিক ও আধুনিক সমাজের উদ্যোগে নিকলী-হাওরে আনন্দ ভ্রমণ নরসিংদীর মনোহরদীতে বিষপানে কৃষকের আত্মহত্যা কুমিল্লা আদালতে প্রধানমন্ত্রী ছবি অবমাননা করায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক মানববন্ধন করোনা সুরক্ষায় চা বাগানের শিক্ষার্থীদের মাঝে সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাবের মাস্ক ও সাবান বিতরণ ইউনেস্কো ক্লাব চট্টগ্রাম জেলার ৩য় সাধারণ সভা সম্পন্ন
ডোমারে নাবালিকাদের বিয়ে নামে চলছে প্রতারণা !

ডোমারে নাবালিকাদের বিয়ে নামে চলছে প্রতারণা !

মোঃ সুমন ইসলাম ডোমার নীলফামারী প্রতিনিধিঃ “
বিয়ে” এই শব্দটিকে অনেক পবিত্র বলে মানা হয়। কারন এই ছোট্ট একটি শব্দের মাধ্যমে শুধু দুইটি মানুষ নয় বরং দুইটি পরিবার একত্রিত হয়। আর এই পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দুটো মানুষ তাদের জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। আর বর্তমানে এই পবিত্র সম্পর্কটাকে নিয়ে সমাজের কিছু অসাধু ব্যক্তি পুতুল খেলার মতো একটা নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে। যার কারনে একটি মেয়ের পুরো জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে। ঠিক তেমনি বিয়ে নামের এই পবিত্র শব্দটাকে ব্যবহার করে দিনের পর দিন প্রতারনার শিকার হচ্ছে প্রায় শতাধিক মেয়ে।
ঠিক তেমনি এই প্রতারনার শিকার হয়েছে, নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের বোতলগঞ্জ কৈমারীপাড়া এলাকার শাহিনুর ইসলাম ও মুক্তি বেগমের মেয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী নাসিমা আক্তার (১৬) একই ইউনিয়নের চান্দখানা কাজিরহাট রেলঘুন্টি সংলগ্ন এলাকার আফিজার ইসলাম ও ছকিনা বেগমের লম্পট পুত্র দশম শ্রেণীর ছাত্র রাসেদ ইসলাম রাহা (১৮)-এর মধ্যে প্রায় ২ বছর ধরে গভীর প্রেমে আবদ্ধ হয়ে ১১/০৬/২০২১ইং তারিখে স্থানীয় মুন্সির মাধ্যমে কোন প্রকার কাগজপত্র ছাড়াই বিয়ে করে। কিন্তু, তাদের দুজনের বয়স কম থাকায় স্থানীয় মুন্সি তাদের কোর্টে এফিডেভিট করার পরামর্শ দেয়। এর প্রেÿিতে টাকার বিনিময়ে অপ্রাপ্ত ছেলে-মেয়েদের প্রাপ্ত বয়স্ক বানিয়ে দালালের মাধ্যমে ১৬/০৬/২০২১ইং তারিখে নীলফামারী জজকোর্টে উপস্থিত হয়ে নাসিমার বয়স ১৬ থেকে ১৮ ও রাসেদের বয়স ১৮ থেকে ২১ করে ৯,৯৯,৯৯৯ টাকা ধার্য্যে ও অলঙ্কার বাবদ ৯,৯৯৯ টাকা প্রদানে এফিডেভিট করে এবং স্থানীয় কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করার অনুমতি প্রদান করে। কিন্তু, তারা আর বিয়ে করেনি। রাসেদ তার স্ত্রী নাসিমাকে রাস্ত্মায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তবে এলাকার মানুষদের ভাষ্য রাসেদ এমনি এমনি পালিয়ে যায়নি। রাসেদের বাবা এই বিয়ে মেনে নেবে না আর সেই জন্যেই রাসেদকে অন্য কোথাও সরিয়ে রেখেছে বলে মন্ত্মব্য করে।
নাসিমার সাথে কথা হলে তিনি জানান,”প্রায় ২ বছর ধরে আমরা একে-অপরকে পছন্দ করি। আর সেই কারনেই ১১/০৬/২০২১ইং তারিখে স্থানীয় মুন্সির কাছে গিয়ে আমরা বিয়ে করি। কিন্তু, আমাদের বয়স ঠিক না থাকায় আমাদের বিয়ে রেজিট্রি করা হয়নি। সেই জন্যে আমরা ১৬/০৬/২০২১ইং তারিখে নীলফামারী জজকোর্টে গিয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে বয়স সংশোধন করি। এবং পুনরায় কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করার জন্য অনুমতি প্রদান করে। পরবর্তিতে ঘটনাটি এলাকায় প্রকাশ হলে রাসেদ আমাকে রাস্ত্মায় ফেলে পালিয়ে যায়। এবং রাসেদের বাবা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার কিছু প্রভাবশালীদের সাথে সলাপরামর্শ করে টাকার বিনিময়ে আমাদের আলাদা করে দিতে চায়। কিন্তু, আমি এসব কিছুই চাই না। আমি রাসেদের সাথে সংসার করতে চাই। আমি ওকে ভালবেসে বিয়ে করেছি, টাকার লোভে নয়। আমি গবীর ঘরের মেয়ে হতে পারি, কিন্তু টাকার লোভ আমার নেই। আমি যাকে ভালবেসে বিয়ে করেছি, তার সাথেই আমি সংসার করতে চাই। আর আমার এই চাওয়াতে যদি কোন অপরাধ থাকে তাহলে আমাকে যা শাস্ত্মি দেওয়ার দিতে পারেন। আমি মাথা পেতে নেব। কিন্তু, আমাদের যদি টাকার ÿমতায় আলাদা করতে চায় তাহলে দেশে তো আইন আছে। আমি আইনি পদÿেপ নেব”।
এলাকার মানুষদের মন্ত্মব্য,”রাসেদ একটি লম্পট প্রকৃতির ছেলে। সে কয়েকবার মেয়ে সংক্রান্ত্ম ব্যপারে মোটা অংকের জরিমানা দিয়েছিল। তার পিতা আফিজারের পারিবারিক অবস্থা ভাল হওয়ায় টাকার জোরে এইসব মামলা থেকে প্রায় বেঁচে যায়। আফিজার নাসিমাকে তার বাড়িতে ঢুকতে দিবে না। আর সেই কারনেই রাসেদকে বাড়ি থেকে সরিয়ে দিয়েছে”।
এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন,”বর্তমানে কোর্টে অপ্রাপ্ত ছেলে-মেয়েদের এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করা একটা প্রচলনের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোর্টে এফিডেভিটের মাধ্যমে বয়স বাড়িয়ে ছেলে-মেয়েদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা হয়। কিন্তু, এটা কি ঠিক। সামান্য কিছু টাকার লোভে কোর্টের উকিল ও স্থানীয় কাজী ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দেয়। আর সেই বিয়ে যখন পরিবারের কেউ মেনে নেয় না, তখন দুই পরিবারের মধ্যে গন্ডগোল শুরম্ন হয়। এতো লেখাপড়া করে সামান্য কিছু টাকার লোভে উকিলরা তাদের মনুষ্যত্ব বিক্রি করে দেয়। কিন্তু, তাদের মাথায় আসে না যে এটার কারনে একটা মেয়ের কত বড় সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে। বর্তমান সমাজে যেকোন ঘটনা ঘটলে ছেলেদের দোষ ঢেকে দেওয়া হয়। আর পুরো সমাজের সামনে একটি মেয়ের সম্মান শেষ করে দেওয়া হয়। কিন্তু, সর্বপরি দেখলে দেখা যাবে, এইসব কিছুর পেছনে আমাদের শিÿিত সমাজ রয়েছে। তাই স্থানীয় সরকারের এইসব ব্যপারে হস্ত্মÿেপ দেওয়া একান্ত্মই জরম্নরী। তা না হলে এইভাবে অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট হয়ে যাবে”।
চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত্ম কেন্দ্রের ইনচার্জ নুরম্নল ইসলাম বলেন,”মেয়েটি ছেলের বাড়ির সামনে গিয়ে অবস্থান নেওয়ায় ছেলের পিতা আফিজার ডোমার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের প্রেÿিতে আমি সোমবার বিকালের দিকে ফোর্স নিয়ে গিয়ে মেয়ে ও মেয়ের মাকে থানায় নিয়ে আসি। কোন প্রকার সমঝোতা না হওয়ার কারনে উভয়কে ডোমার থানায় প্রেরন করি। শুনেছি ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ উভয়কে সমঝোতার জন্য ৪ দিনের সময় দিয়েছে। তা না হলে মামলার প্রস্তুতি নেওয় হবে”।
সরকার আইন করেছে মেয়েদের ১৮ বছর বয়স হলে ও ছেলেদের ২১ বছর বয়স হলে তারা দেশের নাগরিক হবে। এবং নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত্ম নিজেরাই গ্রহন করতে পারবে। আর সরকারের দেওয়া একটি আইনটিকে কাজে লাগিয়ে উকিল ও কাজীরা সামান্য কিছু টাকার লোভে শতাধিক মেয়ের জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে। সরকারের দেওয়া একটি আইনের অপব্যবহার করে বিয়ে নামের একটি পবিত্র বন্ধনকে পুতুল খেলার ন্যয় করে দিয়েছে দেশের শিÿিত সমাজের মানুষরা। এ ব্যপারে স্থানীয় সরকারের দৃষ্টি দেওয়া একান্ত্মই জরম্নরী। কারন ছেলে-মেয়েরা না বুঝে শুনে এভাবেই ভুল করে যাবে। আর সেই ভুলকে কাজে লাগিয়ে উকিল ও কাজীরা নিজেদের আখের গোছাবে। আর মাধখান থেকে নষ্ট হয়ে যাবে একটি মেয়ের সুন্দর জীবন। তাই এই ব্যপারে স্থানীয় সরকার সহ সকলের দৃষ্টি দেওয়া একান্ত্মই দরকার

Comments

comments

Please Share This Post in Your Social Media

© 2018-2021, daynikekusherbani.com- All rights reserved.অত্র সাইটের কোন - নিউজ , ভিডিও ,অডিও , অনুমতি ছাড়া কপি/ অন্য কোথাও ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।
Design by Raytahost.com