সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৩:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিল্পকলায় বিশ্বভরা প্রাণ চট্টগ্রাম জেলার কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন “আধুনিক সাংবাদিকতায় চ্যালেঞ্জ ও ঝুকি বাড়ছে”- সতিকসাস সেমিনারে বক্তারা। মুরাদনগরে ৪৪ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণ ঝিনাইদহের চাঞ্চল্যকর ”সাঈদ হত্যা” মামলার মূলহোতাসহ ২২ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ নবীনগরে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত  ভাঙ্গায় সেই বিতর্কিত  ডাক্তার মোহসিন ফকির  অবশেষে বদলী। আধুনিক সাংবাদিকতায় চ্যালেঞ্জ ও ঝুকি বাড়ছে-সতিকসাস সেমিনারে বক্তারা বড় অংকের টাকা লেনদেনে পুলিশের সহযোগিতা নিতে পরামর্শ রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৯ শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে কাজ করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু টানেলের দক্ষিণ টিউবের সমাপনী উৎসব আজ সেই নিখোঁজ চিকিৎসক জঙ্গিসংগঠন আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য বাঙ্গরায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে  আটক ৫ ডাকাত কারাগারে প্রেরণ  অন্ধ মার্কেটের নতুন করে ঝুকিপূর্ণ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে সাভার উপজেলা প্রশাসন জলঢাকায় নবাগত ইউএনওর মত বিনিময় ডোমারে  এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছেন পুলিশ।  তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা সাভারে কিশোর গ্যং এর উৎপাতে আতঙ্কিত এলাকাবাসী মাইজভান্ডার দরবার শরীফে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের সুধি সমাবেশ সুমন ভূইয়ার  “ত্রাসের রাজত্ব” আশুলিয়ায়

তিন পুরুষের স্বাক্ষী বহন করে চলা ৪৮ বছরের একটি মুজিব কোট

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১, ১২.৫০ অপরাহ্ণ
  • ২৭৩ জন দেখেছে
রেজেওয়ানুল ইসলাম বাপ্পি ::
কিছু ভালবাসা আর আবেগ নষ্ট হয়না কোনদিন রয়ে যায় হৃদয়ের মণিকোঠায় আজীবন। তেমনি একটি মুজিব কোটের গল্প যার বয়স দীর্ঘ চার যুগ অথ্যাৎ ৪৮ বছর।
স্থানীয় আওয়ামীলীগের রাজনীতির বহু ঘটনার স্বাক্ষী বহন করে এই কালো রঙের পুরাতন মুজিব কোটটা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১০ নং হরিশংকরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বাবর আলী বিশ্বাসের জীবনে।
তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মহররম বিশ্বাস বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে ভালবেসে ১৯৭২ সালে ছয় দফার স্বাক্ষী হিসাবে ছয়টি বোতাম দিয়ে কালো রঙের একটি মুজিব কোট তৈরি করেছিলেন।
বাবর আলী বিশ্বাসের বাবার তৈরি করা মুজিব কোটের বয়স মেঘে মেঘে বেলা বেড়ে আজ আটচল্লিশ বছরে এসে দাড়িয়েছে। এতো পুরাতন একটি মুজিব কোট এতো দীর্ঘ বছর বহন করার ঘটনা সত্যিই বিরল বলে মনে হয়। বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে তার বাবার মূত্যুর পর সেই স্মৃতি ধরে রাখার জন্য মুজিব কোটটি ছেলে বাবর আলী বিশ্বাস তিনিও আজ দীর্ঘ ২৩ বছর গায়ে জড়িয়ে রেখেছেন।
মুজিব কোটের রং একটু পুরাতন হলেও তার মনের কাছে আজীবন রঙিন হয়ে আছে বাবার রেখে যাওয়া ৪৮ বছরের পুরাতন মুজিব কোটটা। মহরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহররম বিশ্বাসের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশংকরপুর ইউনিয়নে কোদালিয়া গ্রামে।
তিনি ১৯৭১ সাল থেকে টানা ১৯৯৪ সাল পযন্ত ইউনিয়নের সভাপতি হিসাবে দ্যায়িক্ত পালন করেছেন। বাবর আলী বিশ্বাসের বাবা একজন বঙ্গবন্ধু মুজিব পাগল মানুষ ছিলেন। তিনি বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কে ভালবেসে সব সময় রাজনৈতিক,সামাজিক অনুষ্ঠানে মুজিব কোট গাঁয়ে পরতেন।
তার বাবা ১৯৯৪ সালে বয়সের ভারে ও শারিরীক অসুস্থতার করণে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের পদ থেকে অবসর নেন। বাবা দল থেকে অবসর নেবার পর বাবর আলী বিশ্বাস ১৯৯৪ সাল থেকে বর্তমান সময় পযন্ত ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি দলের দ্যায়িক্ত নেবার পরে দলের অতি দুঃসময়ে বাবার দেওয়া মুজিব কোট গাঁয়ে দিয়ে ইউনিয়নের সমস্ত নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেছেন। অনেক লড়াই সংগ্রাম করেছেন দলের জন্য হরিশংকরপুর ইউনিয়নে জামায়াত, বিএনপির বিরুদ্ধে।
নির্বাচনের সময় বাই সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলের জন্য নৌকার ভোটের জন্য নিবেদিত ভাবে কাজ করে চলেছেন নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে। আওয়ামীলীগ বিরোধী অনেকেই তার এই মুজিব কোট গায়ে দেখে উপহাস করতো হাসাহাসি করতো।বাবর আলী বিশ্বাসও তার বাবার মতো সব সময় আওয়ামীলীগের কর্মীকে নিজের সন্তান ও আপন ভাইয়ের মতো ভালবাসেন।
তিনি বাবার রেখে যাওয়া মুজিব কোটের গল্প বলতে গিয়ে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল ইসলাম বাপ্পির কাছে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন আমার বাবা দেশের জন্য বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। স্বাধীন দেশে বাবা গ্রামে এসে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন তখন আমি তেরো বছর বয়সের ছোট্র কিশোর। আমার আব্বা কে দেখেছি ধান বিক্রয় করে কালো রঙের একটি মুজিব কোট বানিয়ে আনতে। আব্বার বানিয়ে আনা মুজিব কোট দেখে আমাদের বাড়ির সবাই মহা খুশি হোন।
তিনি বলেন আমার মা আওয়ামীলীগের মিছিল,মিটিং ও অনুষ্ঠানে হলে বাবাকে সব সময় মুজিব কোট গায়ে পরিয়ে দিতেন। আমরা ভাই বোনেরা আব্বার মুজিব কোট পরা দেখে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতেন ও খুব খুশি হতেন। আমি কলেজ জীবনে মাঝে মাঝে আব্বার বানানো মুজিব কোটটা পরতাম আব্বা একদিন দেখে বলেন বাবু তুমি মুজিব কোট পরেছো ভালো তবে আমার নেতা শেখ মুজিবের সম্মান রাখবে। মুজিব কোট পরতে হলে মানুষ কে ভালবাসতে হয় তার আদর্শ বুকে ধারণ করে চলতে হয়। তুমি যদি এগুলো মেনে চলতে পারো তাহলে এই পোশাক পরবে আর যদি না পারো তাহলে তুমি মুজিব কোট পরবে না বুঝতে পারলে।
তিনি বলেন আমি আব্বার সেই কথা আজও মেনে চলার চেষ্টাকরি তবে কতটুকু সেই পথে চলতে পারি সেটা মানুষ জানে। বাবার রেখে যাওয়া মুজিব কোট আমার জীবনের থেকে বেশি যত্ন করে রাখি এটা আমার কাছে সব সময় নতুনই মনে হয় এটা আমি মূত্যুর আগে আমার ছেলেকে দিয়ে যেতে চাই। আব্বা অসুস্থ হবার পর ১৯৯৪ সালে আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসাবে নেতারা আমাকে দ্যায়িক্ত দেন। আমি নেতা হবার পরে আওয়ামীলীগের প্রথম মিটিংয়ে আমার বাবা আমাকে নিজে হাতে এই মুজিব কোট গায়ে পরিয়ে দেন।
জানা যায় তারই ধারাবাহিকতায় বাবর আলী বিশ্বাস বঙ্গবন্ধু কে ভালবেসে আজও বাবার রেখে যাওয়া স্মৃতি বহন করে চলেছে। শীত কিংবা গরম যে সময়ই হোক না কেন আওয়ামীলীগের সমস্ত মিটিংয়ে তিনি মুজিব কোট গাঁয়ে দেন। বাবর আলী বিশ্বাসের বঙ্গবন্ধু প্রতি মন থেকে এমন প্রেম এমন আদর্শ দেখে তরুণ প্রজন্মের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীর অনেক কিছু শেখার আছে বলে মনে করেন অনেকেই।
তিনি জীবনে কখন দলের সাথে বেইমানি করেননি সব সময় নৌকার পক্ষে ভোট করেছেন। বঙ্গবন্ধু আদর্শ বুকে নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব মেনে এখনও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সমস্ত নেতাকর্মী কে তিনি আগলে রেখেছেন ষাট বছর বয়সী প্রবীণ এই আওয়ামীলগ নেতা। তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। সারা দেশে এরকম বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে নিয়ে চলা এমন মানুষ বহু জায়গায় নিরবে,নিভৃতে পড়ে আছে। স্যালুট জানাই সেই সমস্ত বঙ্গবন্ধু মুজিব ভক্তদের।

Comments

comments

Please Share This Post in Your Social Media

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
Close
© 2018-2022, daynikekusherbani.com- All rights reserved.অত্র সাইটের কোন - নিউজ , ভিডিও ,অডিও , অনুমতি ছাড়া কপি/ অন্য কোথাও ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।
Design by Raytahost.com
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: